বগুড়া ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নে বিএনপির গণ-সংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Logo কাহালুর শেখাহার দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo আদমদিঘীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত Logo বগুড়ায় মাসিক কল্যাণ সভায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত শেরপুর থানা Logo র‍্যাবের যৌথ অভিযানে আটক ৬ Logo বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত Logo কাহালু প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন সম্পর্কে সিনিয়র সহ আট সাংবাদিকের বিবৃতি প্রদান Logo কাহালুতে বিএনপির গণ-সংযোগ ও লিফলেট বিতরণ Logo যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ চান বিএনপি জামায়াতের নাশকতা মামলার আসামী Logo সান্তাহারে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্য গ্রেফতার
নোটিশ ::
"বগুড়া বুলেটিন ডটকম" এ আপনাকে স্বাগতম। বগুড়ার প্রত্যেক উপজেলায় ১জন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। ফাঁকা উপজেলাসমূহ- সদর, শাজাহানপুর, ধনুট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম

ছোট গল্প: না পাওয়া ভালোবাসা

বগুড়া বুলেটিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / 285
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
আমাদের স্কুলের খেলা চলতাছে তাই আজ কোন ক্লাস হইতাছে না। সবাই বারান্দায় বসে খেলা দেখতাছে। কেউ কেউ রুমে বসে গল্প করতাছে। আমিও দরজার সামনের একটা সিটে বসে খেলা দেখতাছিলাম। হঠাৎ আমার চোখ যায় ক্লাস টেনের রুমের দিকে। ক্লাস টেনের রুম টা আমাদের রুমের সোজা। তাই সেইখান থেকে আমার ক্লাস রুম টা ভালো ভাবে দেখা যায়।
আমি সে দিকে তাকাইতে একটা ছেলে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। প্রথমে ভাবছিলাম অন্য কাউকে দেখতাছে।তাই বেশি গুরুত্ব দিলাম না। তাই আবার খেলা দেখা শুরু করলাম। কিছুক্ষন পর আবার লক্ষ্য করলাম। সেই ছেলেটি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।  এবার আমি আমার বসা থেকে ভেতরে চলে গেলাম। এর মাঝে খেলাও শেষ হয়েছে। তাই ছুটির বেল পড়লে সবাই বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করি। কিন্তু পিছনে ফিরে দেখি সেই ছেলেটি আমার পিছন পিছন আসতাছে। আমি আরো জোরে জোরে হাটা শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমি ছেলে টার থেকে অনেক দূরে চলে আসলাম। বলতে গেলে তার আড়াল থেকে বাহিরে।তার বাসায় গিয়ে নিজের জামা কাপড় চেন্স করে খাওয়া দাওয়া আম্মুর রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি।
 এভাবে আমার দিন টা পার হয়ে গেলো। পরের দিন স্কুলে গেলে সেই ছেলে আমার দিকে এক দৃষ্টি চেয়ে থাকে। আমি ছেলেটির দিকে না তাকিয়ে রুমে ঢুকলাম। তার বান্ধবীদের সাথে সিটে বসে আড্ডা দিতে শুরু করলাম।স্যার ক্লাসে আসলে ক্লাস নেওয়া শুরু করে। আমরাও মন যোগ সহকারে ক্লাস করতে লাগলাম। ক্লাস শেষ করে স্যার চলে গেলে আমি জানালার ধারে বসে বান্ধবীদের সাথে বসে গল্প করতে ছিলাম। কিন্তু আমার চোখ যায় ক্লাস টেনের রুমের দিকে। সেই ছেলেটি কাউ কউকে খুজতে কিন্তু পাইতাছে না হয়তো। আমি সেদিন আর না তাকিয়ে গল্প করতে লাগলাম। তার পর ক্লাসে স্যার আসে। ক্লাস শেষ করে আবার চলে যায়। এভাবে সব কয়টা ক্লাস করে ছুটি হলে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করি। আর সেই ছেলেটিও আমার পিছন পিছন হাটতে থাকে।  কিন্তু কিছু বলে না।
এভাবে কেটে যায় কিছুদিন।  তার হঠাৎ একদিন ছেলেটি আমাকে ডাক দেয়। আমি কাছে গিয়ে।
আমি: কিছু বলবেন কি।
ছেলেটি: ছুটির পর একটু দেখা করতে পারবে কিছু কথা বলার ছিলো।
আমি: আমার সাথে আপনার কি কথা। আর কি বলবেন এখন বলেন।
ছেলেটি: এখন বলতে পারবো না। ছুটির পর দেখা করো প্লিজ।
তার পর আমি আর কিছু না বলে সোজা রুমে চলে গেলাম। ক্লাস করতে লাগলাম। একে একে সব কয়টা ক্লাস করলাম।তার পর ছুটি দিলে রুমের বাহিরে বের হয়ে মাঠের একটা বড় কড়ই গাছের নিচে দাড়িয়ে আছি। একটু পর দেখি সেই ছেলেটি আমার কাছে আসলো।
আমি: কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন। আমার বাসায় যেতে হবে।
ছেলেটি: কিভাবে যে কথাটা বলবো।
আমি: বলতে না পারলে নাই আমি চললাম।
ছেলেটি: আসলে আমি তোমায় প্রথম দেখায় খুব ভালোবেসে ফেলেছি। প্রতিদিন তোমার এক নজর দেখার জন্য ক্লাস শেষে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকি তোমার জন্য। জানি না আমার ভালোবাসা তুমি গ্রহন করবে কি না। তবুও বলছি আমি তোমায় অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া এক মূহুত্ব ভাবতে পারিনা।
আমি: আর কিছু বলবেন কি। এবার আমি যেতে পাড়ি কি।
ছেলেটি: আমার প্রশ্নের উত্তর টা দিলে না।
আমি: ভেবে দেখবো। তারপর হন হন করে হাটতে শুরু করলাম। আর ১৫ মিনিট পর বাসায় আসলাম। তার পর প্রতিদিনের মত জামা কাপড় চেন্স করে শুয়ে পরলাম। আর ভাবতে লাগলাম তার ভালোবাসা কি আমি গ্রহন করবো না করবো না। এসব ভাবতে ভাবতে কেমন জানি একটা অনুভুতি লাগতাছে। কেমন জানি জানি লজ্জা লজ্জা ভাব মনে চলে আসলো। আসলে তাকে দেখে আমারো খুব ভালো লাগছে। আচ্ছা যা বলার আগামিকাল বলবো। এসব নিয়ে এখন আর কিছু ভাববো না।
তার পর রুম থেকে বাহিরে এসে একটু ঘোরাফেরা করলাম। এরই মাঝে সন্ধা নেমে আসলো চারই দিকে। পাখিরা তাদের ফিরছে তাদের আপন নিড়ে। চারই দিকে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে স্কুলে চলে গেলাম। তার পর সকালে সেই ছেলেটি কে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম হয়তো আসেনি। তাই কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর আমি ক্লাস রুমে চলে গেলাম। কিন্তু তাকে দেখার ইচ্ছা করছে। বারে বারে তার রুমের দিকে তাকাইতেছি কিন্তু তাকে দেখতে পাইতাছি না। তাহলে কি সে আজ  আসেনি। দূর কিছু ভালো লাগতাছে না। ক্লাসে স্যার আসলে পড়িয়ে চলে যায়। আমার সে দিকে খেয়াল নাই। আমি জানালা দিয়ে শুধু তার রুমের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু তার দেখা নাই। এক পর্যায়ে ছুটির বেল পরে।  আমি বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে নিলে কেউ পিছন থেকে ডাক দেয়। পিছন ফিরে দেখি সে।
আমি: আজ কোথায় ছিলেন।  একবারও যে দেখলাম না।
ছেলেটি: কেনো আমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো বুঝি।
আমি: বয়েই গেছে আপনাকে দেখার(একটু মজা করে)।
ছেলেটি: তাহলে দরজার সামনে এসে একদিক সেদিক ঘুরে ফিরে কি খুজতাছিলে।
আমি: কই কিছু না তো।আচ্ছা আমি যাই।
ছেলেটি: উত্তর টা তো দিয়ে যাও।
আমি: কাল ছুটির পর দেখা করেন। তার পর একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে থাকলাম। আর ছেলেটি সেখানেই দাড়িয়ে রইলো।
তার পরদিন সকাল সকাল স্কুলে চলে গেলাম। উদ্দেশ্যে ছিলো তাকে দেখার। কিন্তু আজ সে এসেছে দেরিতে। ক্লাসে স্যার আসলে ক্লাস শুরু করে। সব কয়টা ক্লাস করে ছুটি পর আমি দাড়িয়ে আছি। তার পর সে আসলে।
আমি: এতক্ষণ লাগে আসতে।
ছেলেটি: বের হয়েই তো আসলাম তোমাকে দেখে।
আমি: হইছে আর বলতে হবে না। আসলে যা বলার জন্য এখানে ডেকেছি তা হলো। আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো।
ছেলেটি: আমি কখনো ছেড়ে যাবো না। সব সময় আমার কাছেই রাখবো তোমাকে। তার পর থেকে শুরু হয় আমাদের প্রেম। আমাদের প্রেম টা ভালো ভাবেই চলতাছিলো। হঠাৎ একদিন তার পরিবার আমাদের সম্পর্কের কথা জেনে যায়।এমন কি তার পড়াশোনাও বন্ধ করে দেয়। আমার সাথে কোন যোগাযোগ করতে দেয় না। এক পর্যায়ে তাকে দেশে বাহিরে দিয়ে পাঠাই।তার পর থেকে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। এখনো তাকে খুব ভালেবাসি।কিন্তু সে কি আজও আমায় ভালোবাসে না কি ভুলে গেছে। আজ ও তার না পাওয়া ভালোবাসা নিয়ে তার পথের পানে চেয়ে আছি।
লেখক: রবিউল ইসলাম জিবলু

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছোট গল্প: না পাওয়া ভালোবাসা

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
আমাদের স্কুলের খেলা চলতাছে তাই আজ কোন ক্লাস হইতাছে না। সবাই বারান্দায় বসে খেলা দেখতাছে। কেউ কেউ রুমে বসে গল্প করতাছে। আমিও দরজার সামনের একটা সিটে বসে খেলা দেখতাছিলাম। হঠাৎ আমার চোখ যায় ক্লাস টেনের রুমের দিকে। ক্লাস টেনের রুম টা আমাদের রুমের সোজা। তাই সেইখান থেকে আমার ক্লাস রুম টা ভালো ভাবে দেখা যায়।
আমি সে দিকে তাকাইতে একটা ছেলে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। প্রথমে ভাবছিলাম অন্য কাউকে দেখতাছে।তাই বেশি গুরুত্ব দিলাম না। তাই আবার খেলা দেখা শুরু করলাম। কিছুক্ষন পর আবার লক্ষ্য করলাম। সেই ছেলেটি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।  এবার আমি আমার বসা থেকে ভেতরে চলে গেলাম। এর মাঝে খেলাও শেষ হয়েছে। তাই ছুটির বেল পড়লে সবাই বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করি। কিন্তু পিছনে ফিরে দেখি সেই ছেলেটি আমার পিছন পিছন আসতাছে। আমি আরো জোরে জোরে হাটা শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমি ছেলে টার থেকে অনেক দূরে চলে আসলাম। বলতে গেলে তার আড়াল থেকে বাহিরে।তার বাসায় গিয়ে নিজের জামা কাপড় চেন্স করে খাওয়া দাওয়া আম্মুর রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি।
 এভাবে আমার দিন টা পার হয়ে গেলো। পরের দিন স্কুলে গেলে সেই ছেলে আমার দিকে এক দৃষ্টি চেয়ে থাকে। আমি ছেলেটির দিকে না তাকিয়ে রুমে ঢুকলাম। তার বান্ধবীদের সাথে সিটে বসে আড্ডা দিতে শুরু করলাম।স্যার ক্লাসে আসলে ক্লাস নেওয়া শুরু করে। আমরাও মন যোগ সহকারে ক্লাস করতে লাগলাম। ক্লাস শেষ করে স্যার চলে গেলে আমি জানালার ধারে বসে বান্ধবীদের সাথে বসে গল্প করতে ছিলাম। কিন্তু আমার চোখ যায় ক্লাস টেনের রুমের দিকে। সেই ছেলেটি কাউ কউকে খুজতে কিন্তু পাইতাছে না হয়তো। আমি সেদিন আর না তাকিয়ে গল্প করতে লাগলাম। তার পর ক্লাসে স্যার আসে। ক্লাস শেষ করে আবার চলে যায়। এভাবে সব কয়টা ক্লাস করে ছুটি হলে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করি। আর সেই ছেলেটিও আমার পিছন পিছন হাটতে থাকে।  কিন্তু কিছু বলে না।
এভাবে কেটে যায় কিছুদিন।  তার হঠাৎ একদিন ছেলেটি আমাকে ডাক দেয়। আমি কাছে গিয়ে।
আমি: কিছু বলবেন কি।
ছেলেটি: ছুটির পর একটু দেখা করতে পারবে কিছু কথা বলার ছিলো।
আমি: আমার সাথে আপনার কি কথা। আর কি বলবেন এখন বলেন।
ছেলেটি: এখন বলতে পারবো না। ছুটির পর দেখা করো প্লিজ।
তার পর আমি আর কিছু না বলে সোজা রুমে চলে গেলাম। ক্লাস করতে লাগলাম। একে একে সব কয়টা ক্লাস করলাম।তার পর ছুটি দিলে রুমের বাহিরে বের হয়ে মাঠের একটা বড় কড়ই গাছের নিচে দাড়িয়ে আছি। একটু পর দেখি সেই ছেলেটি আমার কাছে আসলো।
আমি: কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন। আমার বাসায় যেতে হবে।
ছেলেটি: কিভাবে যে কথাটা বলবো।
আমি: বলতে না পারলে নাই আমি চললাম।
ছেলেটি: আসলে আমি তোমায় প্রথম দেখায় খুব ভালোবেসে ফেলেছি। প্রতিদিন তোমার এক নজর দেখার জন্য ক্লাস শেষে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকি তোমার জন্য। জানি না আমার ভালোবাসা তুমি গ্রহন করবে কি না। তবুও বলছি আমি তোমায় অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া এক মূহুত্ব ভাবতে পারিনা।
আমি: আর কিছু বলবেন কি। এবার আমি যেতে পাড়ি কি।
ছেলেটি: আমার প্রশ্নের উত্তর টা দিলে না।
আমি: ভেবে দেখবো। তারপর হন হন করে হাটতে শুরু করলাম। আর ১৫ মিনিট পর বাসায় আসলাম। তার পর প্রতিদিনের মত জামা কাপড় চেন্স করে শুয়ে পরলাম। আর ভাবতে লাগলাম তার ভালোবাসা কি আমি গ্রহন করবো না করবো না। এসব ভাবতে ভাবতে কেমন জানি একটা অনুভুতি লাগতাছে। কেমন জানি জানি লজ্জা লজ্জা ভাব মনে চলে আসলো। আসলে তাকে দেখে আমারো খুব ভালো লাগছে। আচ্ছা যা বলার আগামিকাল বলবো। এসব নিয়ে এখন আর কিছু ভাববো না।
তার পর রুম থেকে বাহিরে এসে একটু ঘোরাফেরা করলাম। এরই মাঝে সন্ধা নেমে আসলো চারই দিকে। পাখিরা তাদের ফিরছে তাদের আপন নিড়ে। চারই দিকে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে স্কুলে চলে গেলাম। তার পর সকালে সেই ছেলেটি কে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম হয়তো আসেনি। তাই কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর আমি ক্লাস রুমে চলে গেলাম। কিন্তু তাকে দেখার ইচ্ছা করছে। বারে বারে তার রুমের দিকে তাকাইতেছি কিন্তু তাকে দেখতে পাইতাছি না। তাহলে কি সে আজ  আসেনি। দূর কিছু ভালো লাগতাছে না। ক্লাসে স্যার আসলে পড়িয়ে চলে যায়। আমার সে দিকে খেয়াল নাই। আমি জানালা দিয়ে শুধু তার রুমের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু তার দেখা নাই। এক পর্যায়ে ছুটির বেল পরে।  আমি বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে নিলে কেউ পিছন থেকে ডাক দেয়। পিছন ফিরে দেখি সে।
আমি: আজ কোথায় ছিলেন।  একবারও যে দেখলাম না।
ছেলেটি: কেনো আমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো বুঝি।
আমি: বয়েই গেছে আপনাকে দেখার(একটু মজা করে)।
ছেলেটি: তাহলে দরজার সামনে এসে একদিক সেদিক ঘুরে ফিরে কি খুজতাছিলে।
আমি: কই কিছু না তো।আচ্ছা আমি যাই।
ছেলেটি: উত্তর টা তো দিয়ে যাও।
আমি: কাল ছুটির পর দেখা করেন। তার পর একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে হাটতে থাকলাম। আর ছেলেটি সেখানেই দাড়িয়ে রইলো।
তার পরদিন সকাল সকাল স্কুলে চলে গেলাম। উদ্দেশ্যে ছিলো তাকে দেখার। কিন্তু আজ সে এসেছে দেরিতে। ক্লাসে স্যার আসলে ক্লাস শুরু করে। সব কয়টা ক্লাস করে ছুটি পর আমি দাড়িয়ে আছি। তার পর সে আসলে।
আমি: এতক্ষণ লাগে আসতে।
ছেলেটি: বের হয়েই তো আসলাম তোমাকে দেখে।
আমি: হইছে আর বলতে হবে না। আসলে যা বলার জন্য এখানে ডেকেছি তা হলো। আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো।
ছেলেটি: আমি কখনো ছেড়ে যাবো না। সব সময় আমার কাছেই রাখবো তোমাকে। তার পর থেকে শুরু হয় আমাদের প্রেম। আমাদের প্রেম টা ভালো ভাবেই চলতাছিলো। হঠাৎ একদিন তার পরিবার আমাদের সম্পর্কের কথা জেনে যায়।এমন কি তার পড়াশোনাও বন্ধ করে দেয়। আমার সাথে কোন যোগাযোগ করতে দেয় না। এক পর্যায়ে তাকে দেশে বাহিরে দিয়ে পাঠাই।তার পর থেকে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। এখনো তাকে খুব ভালেবাসি।কিন্তু সে কি আজও আমায় ভালোবাসে না কি ভুলে গেছে। আজ ও তার না পাওয়া ভালোবাসা নিয়ে তার পথের পানে চেয়ে আছি।
লেখক: রবিউল ইসলাম জিবলু